সাদুল্যাপুরে এএসআইকে গণধোলাই

সাদুল্যাপুরে এএসআইকে গণধোলাই
গাইবান্ধা প্রতিনিধি : গাইবান্ধার
সাদুল্যাপুর উপজেলার ধাপেরহাট পুলিশ
ফাঁড়ির এএসআই মো. শাহজাহান
আলীকে গণধোলাই দিয়েছে এলাকাবাসী।
ইদিলপুর ইউনিয়নের রাঘবেন্দুপুর (জীবনপুর)
গ্রামে বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে এ
ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, বিরোধপূর্ণ জমির
ধানকাটা নিয়ে সম্প্রতি ওই গ্রামের
মোস্তাফিজার রহমান লেলিন নামে এক
ব্যক্তি পুলিশ ফাঁড়িতে একটি লিখিত
অভিযোগ করেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার
দিকে অভিযোগের ভিত্তিতে ওই পুলিশ
কর্মকর্তা কনস্টেবল
বেলালকে সঙ্গে নিয়ে বিবাদী জামাল
উদ্দিনের ছেলে ইয়াছিন আলীর
বাড়িতে যান।
পুলিশের উপস্থিতি জানতে পেরে লেলিন ও
ইয়াসিনের মধ্যে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।
পরে এএসআই শাহজাহান আলী ইয়াসিন
আলীর বাড়ির একটি রান্নার চুলা ভাঙচুর
করেন এবং তাকে (ইয়াসিন) চড়-থাপ্পর
দিতে থাকেন। এ সময় তার স্ত্রী ও
মেয়ে ইয়াসমিন আক্তার
এলিনা এবং বাড়ির অন্যান্য মেয়ে লোক
পুলিশের কাছে আটকের বিষয়
জানতে চাইলে শাহজাহান আলী ক্ষিপ্ত
হয়ে এলিনাকেও থাপ্পর মারেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত
হয়ে এএসআই শাহজাহান আলীকে গণধোলাই
দিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন।
গণধোলাইয়ের সময় পুলিশ কর্মকর্তার
পরিহিত পোশাক ছিড়ে যায়। এ
ছাড়া উত্তেজিত জনতা পুলিশের ব্যবহৃত
মোটরসাইকেলটিও আটকে রাখে।
খবর পেয়ে ধাপেরহাট পুলিশ
ফাঁড়ি থেকে অতিরিক্ত পুলিশ
গিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্যের
হস্তক্ষেপে তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার
করে।
ইদিলপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নুর
মোহাম্মদ দ্য রিপোর্টকে ঘটনার
সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান,
এএসআই শাহজাহান আলী উপস্থিত
লোকজনের
সামনে ক্ষমা প্রার্থনা করে ঘটনাস্থল ত্যাগ
করেন।
ধাপেরহাট পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক
(এসআই) জালাল উদ্দিন ঘটনার
সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এএসআই
শাহজাহান আলীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে এএসআই শাহজাহান আলীর
সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি ইয়াসিন
আলীকে আটকের কথা স্বীকার করলেও
কাউকে থাপ্পর ও ভাঙচুরের অভিযোগ
অস্বীকার করেন।
সাদুল্যাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত
কর্মকর্তা (ওসি) জিয়া লতিফুল ইসলামের
সঙ্গে বিকেল ৪টার
দিকে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন,
‘ঘটনাটি শুনেছি।
বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
(দ্য রিপোর্ট/এমজেআর/এমএইচও/আরপি/
আরকে/নভেম্বর ২৭, ২০১৪)

Advertisements