রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের
সোহরাওয়ার্দী হল
শাখা ছাত্রলীগের
ভারপ্রাপ্ত
সাধারণ
সম্পাদক
রুস্তম
আলী আকন্দকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
ছাত্রলীগ দাবি করেছে, গতকাল
শুক্রবার জুমার নামাজের বয়ান চলার
সময় রুস্তমের রুমে প্রবেশ
করে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়
শিবির ক্যাডাররা। পরে আহত
অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল
কলেজ
হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত
চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনার পর
থেকে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ
করছে। এদিকে এ ঘটনার
প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে ছাত্রধর্মঘটের
ডাক দিয়েছে ছাত্রলীগ। দোষীদের
গ্রেফতার না করা পর্যন্ত এ ধর্মঘট
অব্যাহত রাখার হুমকিও
দিয়েছে ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের
নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন,
রুস্তম আলী আকন্দের অনার্স ফাইনাল
পরীক্ষা চলছিল।
দুপুরে সোহরাওয়ার্দী হলের ২৩০ নম্বর
কক্ষে সে বসে পড়ছিলেন। হঠাৎ
শিবির ক্যাডাররা তার কক্ষে প্রবেশ
করে বুকে গুলি করে পালিয়ে যায়।
গুলির আওয়াজ শুনে আশপাশের কক্ষ
থেকে রুস্তমের সহপাঠীরা ছুটে যান।
এ সময় শিক্ষার্থীরা গিয়ে দেখেন,
রুস্তম মেঝেতে পড়ে আছেন। তার ডান
বুকে গুলির ক্ষতচিহ্ন। তাৎক্ষণিক
তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ
হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক
তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
শাখা ছাত্রলীগের
সহসভাপতি আতিকুর রহমান জানান,
শিবিরের কেউ এসে গুলি করে গেছে।
এ ঘটনার সাথে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক
শাস্তির দাবি করেন তিনি।
তবে হলের আবাসিক
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন,
ছাত্রলীগের গুলিতেই রুস্তম নিহত
হয়েছেন। রুমে তিন ছাত্রলীগ
নেতা বসে আগ্নেয়াস্ত্র
পরীক্ষা করছিলেন এমন সময় গুলি বের
হয়ে রুস্তমের বুকে লাগে বলেও
জানিয়েছেন অনেকে। বিশ্ববিদ্যালয়
শাখা শিবিরের পক্ষ
থেকে দাবি করা হয়েছে, রুস্তম হল
কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ
সম্পাদক। আগামী ১০ এপ্রিল
ছাত্রলীগের সোহরাওয়ার্দী হলের
নতুন কমিটি গঠন হওয়ার কথা ছিল।
রুস্তম সভাপতি প্রার্থী। এ
নিয়ে দ্বন্দ্বের
কারণে তাকে গুলি করা হতে পারে। এ
নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর
অধ্যাপক তারিকুল হাসানের
সাথে যোগাযোগ
করা হলে তিনি বলেন,
ঘটনাটি আমরা এখনও
পুরোপুরি জানি না।
ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
তবে ছাত্রলীগ নেতা রুস্তম
আলীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ
হাসপাতালে নেয়ার পর তার মৃত্যু
হয়েছে বলে জানান তিনি।
রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর
রহমান রানা বলেন, এটা কোন দলীয়
কোন্দল বা নিজের গুলি নিজের
গায়ে লাগার ঘটনা নয়। শিবিরের
কেউ এসে মেরে গেছে। এদিকে এ
ঘটনার পরপরই ছাত্রলীগ
নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ
মিছিল করে। আজ তারা কালোব্যাচ
ধারণ করবে। শিবির দীর্ঘদিন
থেকে রুস্তমকে হুমকি দিচ্ছিল বলেও
দাবি করেন তিনি।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের
কমিশনার ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান
জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের
সাথে আলোচনা করে ক্যাম্পাসে অপ্রীতিকর
ঘটনা এড়াতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ
মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায়
এখনো মামলা হয়নি। তবে পুলিশ
যথাযথ প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
দোষীদের শাস্তির আওতায়
আনা হবে।
এদিকে সাদুল্যাপুর (গাইবান্ধা)
প্রতিনিধি জানান, সাদুল্যাপুর
উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের
চকনারায়ণপুর গ্রামের দরিদ্র কৃষক
শাহজাহান আলীর পুত্র
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের
মেধাবী ছাত্র রোস্তম আলীর মৃত্যুর
খবর এলাকায়
এসে পেঁৗছলে গোটা এরাকায় শোকের
ছায়া নেমে আসে। ৩ ভাইয়ের
মধ্যে দ্বিতীয় রোস্তম আলীর এ মৃত্যু
যেন কেউ মেনে নিতে পারছেন না।
তার বাবা-মা সহ স্বজনরা বারবার
মূর্ছা যাচ্ছেন। গতরাত ৮টা পর্যন্ত
তার মৃতদেহ গ্রামে এসে পেঁৗছেনি।
গ্রামবাসী তার লাশের জন্য
অপেক্ষা করছিলেন। রাবি ছাত্রলীগ
নেতা রোস্তম
আলীকে গুলি করে হত্যার
প্রতিবাদে গতকাল সন্ধ্যায়
সাদুল্লাপুর
উপজেলা সদরে উপজেলা ছাত্রলীগ ও
ছান্দিয়াপুর বাজারে রসুলপুর ইউনিয়ন
ছাত্রলীগ বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s